Header Ads

ময়দানের পদকর্তাদের মুখোস খুললেন গতবছর বাংলার সন্তোষজয়ী কোচ মৃদুল ব্যানার্জি



ইনসাইড নিউজ ডেস্ক: কেরালার কাছে সন্তোষ ফাইনালে হেরেছে বাংলা। খুব মনখারাপ গত বছরেরর জয়ী কোচ মৃদুল ব্যানার্জির। ৬ বছরের সন্তোষ খরা তো তাঁর হাত ধরেই কেটেছিল। কিন্তু অন্যায়ভাবে কোচের পদ থেকে সরানো হয় তাঁকে। এমনটাই তাঁর অভিযোগ।

আর সেই সঙ্গে আইএফএ এবং কলকাতার দুই প্রধানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ ঘটালেন মৃদুল। লিখলেন নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে। জেনে নিন ঠিক কী কী বললেন তিনি।

''আজ সন্তোষ ট্রফির ফাইনালে ঘরের মাঠে বাংলা হারার পর মনটা খুবই খারাপ; বাংলা চ্যাম্পিয়ন হলে অবশ্যই ভাল লাগত। এই সময়ে অবশ্যই বলতে হয় যে আমাকে ইচ্ছাকৃত ভাবেই এবছর কোচ করেনি আইএফএ। গতবছর গোয়ার মাঠে গোয়াকে হারিয়ে ছয় বছর পর আমার কোচিং-এ সন্তোষ ট্রফি বাংলায় আসার পরেও।
আবার ঠিক এই সময়ে আমার মনে হোল আমার ফেসবুক বন্ধুদের আমার অনেক না বলা কথা বলার সময় এসেছে যা অনেকেই জানেন না।
এই বাংলায় ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করে তথাকথিত বেশকিছু (ভদ্র) লোক; আর আমার ক্ষেত্রে বারবার এই ভুল হয়েছে। কলকাতা ময়দানের বেশ কিছু লোক ভাবে যে, মৃদুল পরিচিত-অপরিচিত সবার সাথে ভদ্র ব্যবহার করে, মুখে গালাগালি নেই, সুতরাং মৃদুল খুবই দুর্বল প্রকৃতির। তাই যখন তারা কাজের ক্ষেত্রে আমার কাছাকাছি আসে, তখন আমার কাজের ক্ষেত্রে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা দেখে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়, মোহভঙ্গ হয়। এবং দেখে যে আমাকে দিয়ে তাদের স্বার্থসিদ্ধি হবে না; তখন তারা সুযোগ খোঁজে কীভাবে ও কখন আমাকে কোচের পদ থেকে সরাবে। এই কলকাতা ময়দানে বেশিরভাগ সমর্থক থেকে কর্মকর্তাদের ধারনা খেলোয়াড়দের গালাগালি দিয়ে বড় বড় কথা বললেই খুব কড়া কোচ। কলকাতা ময়দানে যে কোচদের মুখে বড় বড় কথা থাকে, আমি খুবই দায়িত্ব নিয়ে বলছি, সেই সব কোচেরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে; আসলে কোচিং সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান কম বলেই তারা সমর্থকদের সামনে, কর্মকর্তাদের সামনে এবং অবশ্যই মিডিয়ার সামনে বড় বড় কথা বলে প্রমাণ করতে চায় যে তাদের কোচিং সম্বন্ধে বিরাট জ্ঞান। এদের জ্ঞান কম বলেই এবং সে সম্বন্ধে তারা অবহিত বলেই, এরা  কোচিং কোর্স করতে ভয় পায় এই ভেবে যে তাদের জারিজুরি ধরা পড়ে যাবে। আচ্ছা আপনারাই বলুন তো, যে কোনও কোচিং কি ছাত্রদের গালাগালি দিয়ে হয়? প্রকৃত শিক্ষা দিতে গেলে প্রয়োজন শিক্ষকের সেই বিষয় সম্বন্ধে জ্ঞান।

এবার আসি, আমার ক্ষেত্রে কীভাবে বারবার বঞ্চনা করা হয়েছে। আমার কোচিং-এ ২০০২ সালে বাংলার বাইরে বাংলা প্রথম U-21 এম, দত্তরায় ট্রফি  জয়ী হয় আসামের দুলিয়াযানে ফাইনালে গোয়াকে হারিয়ে। পরের বছর আবার কোচ হলাম। কর্ণাটকের মান্ডিয়াতে আবার ফাইনালে বাংলা-গোয়া মুখোমুখি। আমরা জিতছিলাম ১-০ গোলে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ  নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে গোয়া গোল শোধ করে। আমার অনেক অনুরোধ ও চাহিদা সত্ত্বেও টুর্নামেন্ট কমিটি অতিরিক্ত সময়ের খেলা ও টাই ব্রেকিং কিছুই করল না এবং বাধ্য করা হলো কাগজের লটারিতে অংশ নিতে; সেই কাগজের লটারিতে গোয়ার হাতে ট্রফি যায়। আমার মনে হয়েছিল যে সেই দলের ম্যানেজার প্রবীর লাহিড়ীর পদক্ষেপ সেই সময় সময়োপযোগী ছিল না ফলে আমাদের লটারিতে যেতে বাধ্য হতে হয়। এবার যারা আমি কোচ থাকার ফলে বাংলা দলে নিজেদের খেলোয়াড়দের ঢোকাতে পারেনি তারা হাতে অস্ত্র পেয়ে গেল; ফলশ্রুতিতে পরের বছর বাংলা দলের কোচের পদ থেকে আইএফএ আমাকে সরিয়ে দিল। শুধু তাই নয়, ময়দানের সবাইকে সন্তোষ ট্রফির কোচ করে আইএফএ যখন ক্লান্ত তখন ২০১৭ সালে আমাকে সন্তোষ ট্রফির কোচ করা হোল; আমার স্থির বিশ্বাস আইএফএ আমাকে কোচ করতে বাধ্য হয়েছিল এই কারণে যে তার আগেই খুবই সাধারণ মানের দল নিয়ে মহমেডানকে কলকাতা লিগে রানার্স করেছিলাম এবং সেই সূত্রে কলকাতা লিগে অমল দত্তের নামাঙ্কিত সেরা কোচের সন্মান পেয়েছিলাম । সেরা কোচকে সন্তোষ ট্রফির কোচ না করলে কথা উঠতে পারে সেই তথ্যে আমার ভাগ্যে শিঁকে ছিঁড়েছিল। আবার সেই একই কাহিনী; সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়ে এলাম, আবার অজানা কারণে আই এফ এ আমাকে এবছর সন্তোষ ট্রফির কোচ করলো না ।

এতো গেল আইএফএ-র কথা। এবার বলি মহমেডানের কথা। সবার বিচারে রেলিগেশন করার দল নিয়ে শেষমেশ মোহনবাগানকে হারিয়ে কলকাতা লিগে রানার্স হলাম। কিন্তু মহমেডান কর্মকর্তারা আমাকে সরিয়ে দিল সন্তোষ ট্রফির কোচ হয়েছি এই অজুহাত দিয়ে। আসল কারণ লুকিয়ে অন্য  জায়গায়; মহমেডানের এক আধা কর্মকর্তার জারিজুরি আমার কাছে খাটে নি, তাই সে ইকবাল আহমেদের কান ভাঙ্গিয়ে আমাকে মহমেডান থেকে সরাল। কিন্তু মহামেডানের কোনও লাভ হল না, উল্টে ২য় ডিভিশন আই লিগে ফলাফল মহামেডানকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল।
এর আগে মোহনবাগানেও আমি বঞ্চিত হয়েছি। ২০১৪ সালে আমাকে মোহনবাগান সরিয়ে দেয় কোনও কারণ ছাড়াই। ২০১২ সালে সন্তোষ কাশ্যপের পর দলের রেজাল্ট খারাপের সময়ে আমি কোচ হয়েছিলাম এবং মোহনবাগানকে পরপর ম্যাচ জিতিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি দ্বিধাহীন ভাবেই বলতে চাই যে সেই সময়ে মোহনবাগান থেকে আমাকে সরানোর ফলে আমার কোচিং জীবনে অনেক ক্ষতি হয়েছে যা কাম্য ছিল না । এই সম্পর্কে অনেক মোহনবাগানি সদস্য-সমর্থক আমার সাথে একমত।
আর দেখুন ভাগ্য, ইষ্টবেঙ্গলের কোচ হলাম এবং পায়ে আঘাত পেলাম। দুঃখ একটাই যে, দায়িত্ব পেয়েছিলাম, কিন্তু আঘাত আমাকে তা করতে দিল না। এটা বলতেই হবে যে ইষ্টবেঙ্গলে আমাকে টাকা পাঠিয়ে যে সৌজন্যতা দেখিয়েছে তাতে আমি সত্যিই অভিভূত।
এত কিছু বঞ্চনা ও না পাওয়ার মধ্যে আমার একটাই বলার মতো তা হল, যে ভালবাসা আপনাদের কাছে পেয়েছি তা তুলনাহীন ; আর আমি এরসঙ্গে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ ইষ্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও মহমেডান সদস্য-সমর্থকদের কাছে।''

No comments

Powered by Blogger.