Header Ads

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জীবনের সহজপাঠ



রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে কবি গুরুকে খুঁজলেন কবি অভিজিৎ মণ্ডল।

কম-বেশি প্রায় সমস্ত বাঙালির জীবনেই একটা গোপন চিলেকোঠার মতো একান্ত একজন মনের মানুষ আছেন। তিনি অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ। সেই প্রথম সহজপাঠ-এর হাত ধরে তাকে চেনা। তারপর মেঘে মেঘে বেলা বেড়েছে ঢের, বন্ধ ঘরের দুয়ার ভেঙে প্রথম সূর্যালোকের মতো ছড়িয়ে পড়েছে তার গান। মাঝে মাঝে  হিংসে হত খুব, যেন বাঙালি হৃদয়ের ঠিকা নিয়ে বসে আছে এই লোকটি। এভাবে কখন যে মানুষ থেকে মনের মানুষ হয়ে উঠেছিল সে, তা শ্যামলী দি'কে দেখে বুঝেছিলাম। স্বামী-সংসার ছেড়ে আসা এহেন শ্যামলী দি'র একমাত্র আশ্রয় হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্রনাথের গান। মাঝে মাঝেই দেখতাম গুনগুন করে গেয়ে উঠত—"যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে, জানি নাই তো তুমি এলে আমার ঘরে।" আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসত, এই গানের আলোর ওপারে যেটুকু অন্ধকার, সেখানে দাঁড়িয়ে আমি টের পেতাম শ্যামলী দি'র সেইসব না বলা দীর্ঘশ্বাসের। খুব যে খারাপ গাইত তা নয়, কিন্তু পাড়ার অনুষ্ঠানে শ্যামলী দি'কে আর কোনোদিন গাইতে দেখিনি। হয়তো আয়োজনের আড়ম্বর ছাড়িয়ে প্রস্তুতিহীন পর্ণকুঠিরের পথে পথে শ্যামলী দি খুঁজে বেড়াতে চাইত তার আপন মানুষটিকে। সেই তো পরম চেনা, যেখানে সন্ধে হলে 'সব পাখি ঘরে ফেরে, সব নদী!'
               এভাবে কোনো-কোনোদিন জলপট্টির দুপুর পেরিয়ে গোধূলির বিষণ্ণ আলোয় আমিও যেন ফটিক হয়ে উঠি, আর আপন মনে বলতে থাকি— "মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি । এক বাঁও মেলে না। দো বাঁও মেলে—এ—এ না...।"

No comments

Powered by Blogger.